বেসরকারি চাকরিজীবীদের ন্যূনতম বেতন ও সুরক্ষায় আসছে নতুন সার্ভিস রুলস
বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত চাকরি বিধিমালা বা সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই বিধিমালার আওতায় বেসরকারি চাকরিজীবীদের ন্যূনতম বেতন, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, চাকরির স্থায়িত্ব এবং বৈষম্য দূরীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনার মধ্যেই বেসরকারি খাতের এই যুগান্তকারী উদ্যোগের বিষয়টি সামনে আসে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী বেসরকারি খাতে কর্মরত থাকলেও তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো চাকরি বিধিমালা ছিল না। নতুন এই রুলস বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি কর্মীরা নিয়োগপত্র, বিভিন্ন ধরনের ছুটি এবং যথাযথ মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো মৌলিক অধিকারগুলো আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে ফিরে পাবেন। ইতোমধ্যে এই খসড়া বিধিমালার ওপর বিভিন্ন সংগঠন ও অংশীজনদের মতামত জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের মতামত জমা দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান শ্রম আইনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় কিছু বিধান থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার সঠিক প্রতিফলন দেখা যায় না। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো কর্মী ছাঁটাই করে এবং বয়স হলে কর্মীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এছাড়া, অনেক সংস্থায় সঠিক সময়ে সার্ভিস বেনিফিট বা গ্র্যাচুইটি দেওয়া হয় না। নতুন এই সমন্বিত রুলস বা বিধিমালা কার্যকর হলে এই ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হবে এবং জোরপূর্বক শ্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মীরা যাতে তাদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই সমন্বিত বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য।
