প্রণোদনার ৬০ হাজার কোটির টাকা নয়ছয়ের সুযোগ দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক
মাত্র ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ—বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৩ বছরের মধ্যে এসে ঠেকেছে এই নিচু জায়গায়। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে সাড়ে ১০ শতাংশ, বন্ধ হচ্ছে কলকারখানা, বাড়ছে না মানুষের আয়। অর্থনীতির এই মন্দা কাটাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এনেছে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল—
তবে ব্যাপারটা শুধু টাকা ছড়িয়ে দেওয়া নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার নিচ্ছে কড়া ব্যবস্থা। প্রণোদনার ৬০ হাজার কোটির টাকা নয়ছয়ের সুযোগ দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক—এই বার্তাটাই স্পষ্ট করছেন কর্মকর্তারা। কীভাবে? আসল কৌশলটা হলো এস্ক্রো হিসাব। গ্রাহকের আয় সরাসরি জমা হবে এই অ্যাকাউন্টে, আর আগে কেটে নেওয়া হবে ব্যাংকের কিস্তি। বাকি টাকা যাবে ব্যবসায়ীর হাতে, কিন্তু তাও নজর থেকে বের হবেন না।

অবশ্য এই উদ্যোগ সফল করতে শুধু নিয়ম করলেই হবে না। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খানের কথাই ধরুন—তিনি বলছেন, যাদের সত্যিই ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে, কেবল তাদের বাছাই করে ঋণ দেওয়া উচিত। ব্যাংকার মাসরুর আরেফিনও প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে কীভাবে? ট্রেজারি বিল-বন্ডের বিপরীতে রেপো সুবিধা দিলেই কি তারল্য সঠিক জায়গায় যাবে?
এখানেই প্রশ্ন, এই ৬০ হাজার কোটি টাকা কি সত্যিই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নাকি আগের মতো অনিয়মের পথ খুলে দেবে? গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য পিকেএসএফ পাচ্ছে ৫ হাজার কোটি, তাদের ঋণ ফেরতের হার ৯৯ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে আনসার–ভিডিপি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৭ শতাংশ—তাদের হাতে টাকা দেওয়া কি ঝুঁকি বাড়াবে না? বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘যেখানে স্বচ্ছতা নেই, সেখানে প্রণোদনার টাকা যাবে না’—এই নীতিতেই কাজ হবে।
এরপর কী হতে পারে? ঈদের পর প্রকাশ হবে নীতিমালা, তারপর শুরু হবে ঋণ বিতরণ। বন্ধ কারখানা খোলার জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা, যা ২ লাখ কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এই প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতিকে গতি দেবে কি না, তা নির্ভর করছে ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বয়ের ওপর। যদি না হয়—তবে শুধু টাকা নয়ছয় হবে না, বরং মন্দার চক্র আরও গভীর হবে।
