সরকারি চাকরির বাজারে কিছু পদ থাকে যেগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল থাকে, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই সেই পদগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো “সার্টিফিকেট পেশকার”। আপনি হয়তো জেলা প্রশাসকের অফিস বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে ফাইলের স্তূপের পেছনে ব্যস্ত কিছু মানুষকে দেখেছেন, কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন যে সার্টিফিকেট পেশকার এর কাজ কি? তারা সারা দিন অফিসে বসে আসলে কী কী কাজ করেন? চলুন, একদম গোড়া থেকে জেনে নেওয়া যাক এই পদের প্রতিদিনের দায়িত্ব, বাস্তব চিত্র এবং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা।
অনেকেই ধারণা করেন, পেশকার মানে বোধহয় শুধু আদালতের নথিপত্র এদিক-সেদিক করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন সার্টিফিকেট পেশকার হলেন সরকারি রাজস্ব আদায়ের বিচারিক প্রক্রিয়ার মেরুদণ্ড। সরকারি অফিসের কার্যপ্রণালী পর্যবেক্ষণ করে এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে এখানে এই পদের ভেতরের খবর তুলে ধরা হয়েছে। সহজ ভাষায় জানানো হয়েছে সার্টিফিকেট পেশকার এর কাজ, তাদের প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ এবং এই চাকরির ভবিষ্যৎ।
কাদের সার্টিফিকেট পেশকার বা Certificate Peshkar বলা হয়?
সহজ বাংলায় বললে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে “জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা” নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা থাকে। এখানে মূলত সরকারের পাওনা টাকা যেমন কৃষি ঋণ, ভ্যাট, জলমহাল ইজারা বা অন্য কোনো বকেয়া আদায়ের জন্য মামলা পরিচালিত হয়। এই মামলাগুলো পরিচালনার জন্য যিনি সার্টিফিকেট অফিসার বা বিচারককে দাপ্তরিক ও নথিপত্র সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করেন, তিনিই হলেন সার্টিফিকেট পেশকার। অফিসের প্রয়োজনে অন্য শাখায়ও তাদের পোস্টিং হয়ে থাকে।
তাঁকে বিচারকের ডান হাত বললে অত্যুক্তি হবে না। বিচারক রায় দেন ঠিকই, কিন্তু সেই রায়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করা, নথি সাজানো এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি কাঠামোতে দাঁড় করানোর মূল কারিগর হলেন এই পেশকার।
সার্টিফিকেট পেশকার এর কাজ কি? (Certificate Peshkar Job Responsibilities)
বাস্তবে দেখলে বোঝা যায়, সার্টিফিকেট পেশকার এর কাজ কি—তা শুধু ফাইল টানাটানি নয়, বরং পুরো রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া সচল রাখা। তাদের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। একজন পেশকারকে একই সাথে করণিক, আইনি সহকারী এবং জনসংযোগ কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করতে হয়। নিচে তাদের প্রধান কাজগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো।
১. মামলার ফাইল প্রস্তুত ও উপস্থাপন
একজন সার্টিফিকেট পেশকারের দিনের শুরুটাই হয় ফাইল খোঁজাখুঁজি দিয়ে। প্রতিদিনের কার্যতালিকায় যেসব মামলা থাকে, সেগুলোর নথিপত্র রেকর্ড রুম বা আলমারি থেকে বের করতে হয়। প্রতিটি ফাইলে গত তারিখের আদেশ কী ছিল, আজ কী পদক্ষেপ নিতে হবে—তা দেখে ফাইলগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী সার্টিফিকেট অফিসারের টেবিলে উপস্থাপন করা সার্টিফিকেট পেশকার এর প্রধান কাজ। একটি ভুল ফাইল পুরো দিনের বিচারিক কাজ এলোমেলো করে দিতে পারে।
২. ধারা-৭ নোটিশ জারি ও প্রসেস সার্ভিং
যখন কোনো ব্যাংক বা সংস্থা কারো বিরুদ্ধে টাকা অনাদায়ের মামলা করে, তখন প্রথমেই বিবাদীকে জানানোর প্রয়োজন হয়। পিডিআর অ্যাক্ট, ১৯১৩ অনুযায়ী এই জানানোটিকে বলা হয় “ধারা-৭ নোটিশ”। সার্টিফিকেট পেশকার নির্ভুলভাবে এই নোটিশটি লেখেন, অফিসারের স্বাক্ষর নেন এবং সেটি জারিকারকের মাধ্যমে বিবাদীর ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ঠিকানা ভুল হলে বা নোটিশ ফেরত এলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাও তাকে নির্ধারণ করতে হয়।
৩. আদেশনামা বা অর্ডার শিট লেখা
এটি সার্টিফিকেট পেশকার এর দায়িত্বগুলোর মধ্যে সবচেয়ে টেকনিক্যাল কাজ। শুনানির সময় অফিসার মৌখিকভাবে যে নির্দেশ দেন, পেশকারকে সেটি আইনি ভাষায় আদেশনামায় লিখে ফেলতে হয়। এখানে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এই লিখিত আদেশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হাতের লেখা স্পষ্ট হওয়া এখানে একটি বাড়তি সুবিধা।
৪. ওয়ারেন্ট ইস্যু ও তদারকি
যদি নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করা হয় বা আদালতে হাজির না হওয়া হয় তবে দেনাদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বা মালামাল ক্রোকের পরোয়ানা জারি করতে হয়। পেশকার এই ওয়ারেন্টের ফরম পূরণ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেটি প্রেরণ করেন এবং ওয়ারেন্ট তামিল হয়েছে কি না, তার রিপোর্ট সংগ্রহ করে নথিতে যুক্ত করেন।
৫. দৈনিক কার্যতালিকা তৈরি
আদালতের নোটিশ বোর্ডে বা দরজায় আজকের মামলার তালিকা টাঙানো থাকে। এই তালিকা তৈরি করা সার্টিফিকেট পেশকার চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোন মামলাটি কখন শুনানি হবে, তা এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যাতে বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে না পড়েন।
অন্যান্য দায়িত্বসমূহ
উপরোক্ত কাজগুলোর পাশাপাশি একজন সার্টিফিকেট পেশকারকে আরও কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ তার মধ্যে অন্যতম। রেজিস্টার-৯ (মামলা দায়ের রেজিস্টার), রেজিস্টার-১০ (আদায় রেজিস্টার) সহ প্রায় বেশ কয়েক ধরনের রেজিস্টার আপ-টু-ডেট রাখতে হয়। এছাড়া মামলার আবেদনে সঠিক মানের কোর্ট ফি স্ট্যাম্প লাগানো আছে কিনা তা যাচাই করা, প্রয়োজনীয় নিলামের ইশতেহার তৈরি করা, মাস শেষে আদায় ও মামলা নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এবং পুরনো বা নিষ্পত্তি হওয়া মামলা রেকর্ড রুমে জমা দেওয়ার কাজও পেশকারকেই করতে হয়।
সার্টিফিকেট পেশকার মানে কি এবং কেন এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সার্টিফিকেট পেশকার মানে কি? সহজ কথায়, “সার্টিফিকেট” শব্দটি এখানে ১৯১৩ সালের পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্টের আওতায় দায়েরকৃত দাবিকে বোঝায়। আর “পেশকার” শব্দটি ফার্সি, যার অর্থ ‘উপস্থাপক’। অর্থাৎ, সার্টিফিকেট পেশকার হলেন তিনি, যিনি সরকারি পাওনা আদায়ের দাবি বা সার্টিফিকেট মামলাগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারকের সামনে পেশ করেন এবং নথিভুক্ত করেন।
এই পদটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বিভিন্ন খাতে অনাদায়ী থাকে। এই টাকা আদায়ের চাবিকাঠি থাকে সার্টিফিকেট আদালতের হাতে। আর সেই আদালতের চাকা সচল রাখেন একজন পেশকার। তিনি যদি ঠিকমতো নোটিশ জারি না করেন বা ফাইলে ভুল তথ্য দেন, তবে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এটি শুধু একটি চাকরি নয়, বরং দেশসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সার্টিফিকেট পেশকার চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা
আপনি যদি এই পেশায় আসতে চান, তবে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয়। সার্টিফিকেট পেশকার চাকরির কাজ সুচারুভাবে করার জন্য কিছু বিশেষ দক্ষতা থাকা আবশ্যক। এর মধ্যে টাইপিং স্পিড অন্যতম। বর্তমানে সব অফিস ই-নথি বা ডিজিটাল সিস্টেমে চলে যাচ্ছে, তাই বাংলা ও ইংরেজি টাইপিংয়ে ভালো গতি থাকা জরুরি। বিশেষ করে বাংলা টাইপিংয়ে ভুল করা চলবে না।
ধৈর্য ও জনসংযোগ দক্ষতাও খুব প্রয়োজন। প্রতিদিন নানা ধরনের মানুষের সাথে কথা বলতে হয়—কেউ রাগী, কেউ নাছোড়বান্দা। মাথা ঠান্ডা রেখে তাদের হ্যান্ডেল করা সার্টিফিকেট পেশকার এর দায়িত্বের অংশ। পিডিআর আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি এবং তামাদি আইন সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকলে কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আপনাকে উকিল হতে হবে না, তবে আইনের ভাষা বুঝতে হবে। সবশেষে, হাজার হাজার ফাইলের মধ্যে থেকে মুহূর্তের মধ্যে নির্দিষ্ট কাগজটি খুঁজে বের করার দক্ষতা থাকা অপরিহার্য।
সার্টিফিকেট পেশকারের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
অফিসভেদে সার্টিফিকেট পেশকারের বেতন কত? এই পদটি সাধারণত ১৬তম গ্রেডের চাকরি। বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী ১৬তম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হয় প্রায় ৯,৩০০ টাকা থেকে। তবে শুধু মূল বেতনই আসল বিষয় নয়। এর সাথে যোগ হয় বিভিন্ন সরকারি ভাতা যেমন বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং উৎসব ভাতা। এই ভাতাগুলো যুক্ত হলে একজন সার্টিফিকেট পেশকারের মাসিক মোট বেতন সাধারণত ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গ্রাম বা উপজেলা পর্যায়ের অফিসে বেতন একটু কম হয়, আবার জেলা শহর বা গুরুত্বপূর্ণ অফিসে ভাতার কারণে কিছুটা বেশি পাওয়া যায়।
পদোন্নতির কথা বললে, এই পদে প্রমোশনের গতি কিছুটা ধীর। তবে অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে সার্টিফিকেট সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং প্রধান সহকারী পদেও যাওয়ার সুযোগ থাকে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করার সুবাদে স্থানীয় প্রশাসনে ভালো পরিচিতি ও সম্মান পাওয়া যায়। চাকরি শেষে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সুবিধাও রয়েছে।
সার্টিফিকেট পেশকার বনাম আদালতের পেশকার: পার্থক্য কী?
অনেকে জজ কোর্টের পেশকার আর ডিসি অফিসের সার্টিফিকেট পেশকারকে গুলিয়ে ফেলেন। দুজনেই পেশকার, কিন্তু কাজের ধরণ আলাদা। সার্টিফিকেট পেশকার পিডিআর অ্যাক্ট ১৯১৩ অনুযায়ী কাজ করেন এবং তাদের মামলার ধরণ শুধু টাকা আদায় সংক্রান্ত। তারা জেলা প্রশাসক বা ইউএনওর অধীনে কাজ করেন। অন্যদিকে আদালতের পেশকার দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কাজ করেন। তাদের মামলার পরিধি অনেক বিস্তৃত—জমিজমা, খুন, চুরি, ডিভোর্স সব ধরনের মামলা তাদের টেবিলে আসে। তারা জেলা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে কাজ করেন।
সার্টিফিকেট পেশকার হিসেবে সফল হওয়ার টিপস
আপনি যদি সদ্য এই চাকরিতে যোগদান করেন বা যোগদানের কথা ভাবছেন, তবে এই টিপসগুলো আপনার ক্যারিয়ার বদলে দিতে পারে। প্রথমত, পিডিআর ম্যানুয়ালটি মুখস্থ না হলেও হাতের কাছে রাখুন। কোনো কনফিউশন হলেই বই খুলে দেখে নিন। দ্বিতীয়ত, আপনার সিনিয়রদের যথাযথ সম্মান করুন। এই কাজে হাতে-কলমে শেখার কোনো বিকল্প নেই। তৃতীয়ত, সর্বদা সততা বজায় রাখুন। এই শাখায় টাকার লেনদেন থাকে বলে অনেক প্রলোভন আসতে পারে। সততাই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সর্বশেষে, বিচারক বা অফিসার কী বলছেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস করুন। আদেশে ভুল লিখলে পুরো দায় আপনার ওপর আসবে।
সার্টিফিকেট পেশকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: সার্টিফিকেট পেশকার এর কাজ কি মেয়েদের জন্য উপযুক্ত?
উত্তর: অবশ্যই। বর্তমানে অনেক নারী ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিসে সার্টিফিকেট পেশকার হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। এটি সম্পূর্ণ অফিসিয়াল ডেস্ক জব, তাই নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক।
প্রশ্ন ২: এই চাকরিতে কি অনেক কাজের চাপ থাকে?
উত্তর: সরকারি চাকরির মধ্যে এটি বেশ ব্যস্ত একটি পদ। বিশেষ করে জুন মাসে অর্থবছর শেষের দিকে এবং অডিট চলাকালীন সময়ে কাজের চাপ বাড়ে। তবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটি রুটিনমাফিক মনে হবে।
প্রশ্ন ৩: নিয়োগ পরীক্ষায় কী ধরণের প্রশ্ন আসে?
উত্তর: সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞানের ওপর লিখিত পরীক্ষা হয়। বাংলায় এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা ও শুদ্ধিকরণ থাকে। ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন ও প্রিপজিশন থাকে। আর গণিতে ঐকিক নিয়ম, শতকরা ও সুদকষা থেকে প্রশ্ন আসে।
প্রশ্ন ৪: বদলির সুযোগ আছে কি?
উত্তর: সাধারণত ডিসি অফিসের কর্মচারীদের নিজ জেলার মধ্যেই বদলি করা হয়। তবে প্রশাসনিক প্রয়োজনে বা পদোন্নতি হলে অন্য উপজেলায় বদলি হতে পারে।
প্রশ্ন ৫: শিক্ষাগত যোগ্যতা কী লাগে?
উত্তর: আগে এইচএসসি পাস থাকলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে স্নাতক পাস চাওয়া হয়। নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন ৬: এই পদে জয়েন করলে কি কম্পিউটার দেওয়া হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, এখন প্রায় সব সার্টিফিকেট সেকশনেই কম্পিউটার ও প্রিন্টার দেওয়া হয়েছে। হাতের লেখার দিন প্রায় শেষ।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, সার্টিফিকেট পেশকার এর কাজ কি—এটা কেবল একটি সকাল-বিকেলের চাকরি নয়। এটি একটি দায়িত্ব, যা সরকারি অর্থ ব্যবস্থা সচল রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি পরিশ্রমী হন, মানুষকে আইনি সহায়তা দিয়ে মানসিক তৃপ্তি পেতে চান এবং সরকারি চাকরির নিরাপত্তা খুঁজছেন, তবে এই পদটি আপনার জন্য একটি চমৎকার ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে। কাজের চাপ থাকবেই, কিন্তু দিনশেষে যখন দেখবেন আপনার করা নোটিশ বা ওয়ারেন্টের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা সরকারি টাকা আদায় হয়েছে, তখন নিজের প্রতি এক অন্যরকম গর্ববোধ কাজ করবে। যারা এই পেশায় আসতে চান, তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যান।